শিকারীর খাঁচা

 

 

দৃষ্টি আকর্ষন করার মত কিছুই ছিল না ওর জীবন কাহিনীতে। একদম সাদামাঠা রং রস বিহীন সাদাকালো একটা জীবন।  

কিন্তু এমুহুর্তে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে জীবন হয়ে উঠলো গল্পের এক অনন্য চরিত্র। এক গাদা তাজা লাল রক্তের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে পুলিশের খাকি ইফনিফরম পরা বিশ বছরের টগবগে তাজা

দেহটা।

রাইফেলের বাটটা মাটিতে রেখে ব্যারেলটা গলায় ঠেকিয়ে পায়ের আঙুল দিয়ে বোধহয় ট্রিগারটা টিপেছে।

কোন উপায়ন্তর না দেখে জীবন শেষে ওর নিজের জীবনটায় নিয়ে নিল!

নিতান্তই রক্ত মাংসের দেহে বেচে থাকার জীবন ওদের। ওর সীমিত জ্ঞানের পরিসীমার মধ্যে দিন আনা  দিন খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা, ওদের পরিবার আর বড়জোর গ্রামের পরিধির বাইরে অন্য কিছুই ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে অর্জিত সোনার হরিনের হাতছানি ওকে দিশেহারা করে দিল। আর সেই সোনার হরিন ওকে ছুটাতে ছুটাতে শিকারীর খোয়াড়ের মধ্যে আটকে ফেলেলো।

জীবনের বাস্তবতা থেকে শরীরটা নিয়ে বের হওয়ার কোন পথ আর খুজে না পেয়ে ওকে শরীরটা রেখেই বেরিয়ে আসতে হলো শিকারীর খাঁচা থেকে।

একদম সাদা মাটা একটা জীবন ওর। কে জানতো অত টুকু বুকে অত বড় কষ্ট বয়ে নিয়ে বেচে ছিল জীবন।

অজ পাড়া গায়ে এক দরীদ্র ঘরে জন্ম জীবনের। বাবা মা চারটে ভাই আর একটা বোন নিয়ে সংসার ওদের। সম্পত্তি বলতে ছোট্ট ভিটেটা বাদে বসত বাড়ীর অদূরে মাঠে বিঘে খানেক চাষের জমি।

অভাবী সংসারে কারোরই লেখাপড়া শেখা হয়ে ওঠেনি। ছোট বয়স থেকেই খেটে খেতে হয় সবাইকেই। নিজেদের জমিতে যা হয় তা দিয়ে চলে না। অপরের জমি বর্গা করে সংসার চালাতে হয়।

চার ভায়ের ছোট জীবন। একটা দুর্ঘটনার মত ও গ্রামের হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে ফেললো। আবার আরেকটা দুর্ঘটনার মতই কেউ কিছু জানার আগেই পুলিশ কনসটেবলের চাকরীটা পেয়ে গেল। সবাই বললো বড় ভাগ্য কপালে ছেলেটা।

ওর অন্য ভাইগুলো সবাই ক্ষেত খামারে কাজ করে। অবধারিত ভাবে জীবনও তেমনি একটা কিছু করে ওর জীবনটাও কাটিয়ে দিত। কিন্তু বাধ সাধলো ওর ম্যাট্রিক পাশ করাটা। জীবন ম্যাট্রিক পাশ করবে এটা যেমনি ওর নিজের স্বপ্নের অতীত তেমনি ওর বাবা আর ভাইদেরও। এই পাশ করাটাই ওর স্বপ্নের গন্ডিটা বাড়িয়ে দিয়ে ওকে দিশেহারা করে দিল।

জীবন ক্ষেত খামারে কাজ করবে না, ও চাকরী করবে। চাকরী একটা পেলেই ও এক লাফে অনেক উপরে উঠে যাবে, সবাই চিনবে ওকে। সোনার হরিণ একদম ওর ধরা ছোয়ার মধ্যে এসে যাবে।

জেলা কোটায় পুলিশে লোক নেয়া হচ্ছে, লাগবেও ম্যাট্রিক পাস, কিন্তু ওর জেলার কোটা খালি নেই, আছে পাশের জেলা কোটায়। কি করবে কিছুই ভেবে পেল না। ওদের বাড়ীটা দুই জেলার সীমানার একদম গা ঘেসে। ওদের বাড়ি থেকে নিজ জেলা সদরের থেকে পাশের জেলা সদর অনেক কাছে। সব ধরণের কাজে তায় পাশের জেলা সদরেই ওদের যাতায়াত বেশী।

কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস! কয়েক গজ দূরে ওদের বাড়ীটা হলেই কত বড় একটা সমস্যা থেকে রেহায় পেত ও। মাত্র কয়েকটা গজ ওর জীবনে এত বড় বাধা হয়ে দাড়াবে তা স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি জীবন।

কি করা যায়! ব্যাপারটা নিয়ে যে কারো সাথে আলোচনা করবে তেমন কেউ নেইও ওর। কত কিছু মনে হলো – একই দেশ একই মানুষ এই কয়েকটা গজ জেলা সীমানাটা সরিয়ে দিলে কারো কোন

ক্ষতিও হবে না বা আপত্তি থাকারও কথা না।

পাশের জেলা সদরে ওর বড় চাচা থাকেন। পুরনো দলিল লেখক, নিজে ছোট একটা বাড়ীও করেছেন সেখানে। জীবনের বাবা তাকে পছন্দ করে না তেমন। কারণ তিনি নাকি মানুষ ভালো না।

জীবন ওর চাচার বাড়ীতে বেড়াতে গেল। সারা রাত ধরে ভাবলো কি করা যায়। অনেক ভেবে চিন্তে নিজে নিজেই ঠিক করলো ঠিকানা ভূল দেখিয়ে চেষ্টা করতে ক্ষতি কি!

জীবন ফরম পুরন করার সময় ঠিকানাটা দিল ওর চাচার। চাকরী হবে না তবুও মনকে বুঝ দেয়ার জন্যই এত সব করলো।

কিন্তু চাকরীটা ওর হলো। কি অবিশ্বাস্য! কি আনন্দ! এ যে স্বপ্নাতীত।

ওর বাবা মা ভাই সবার কাছেই খবরটা অতিপ্রাকৃত। ম্যাট্রিক পাশের পর যে স্বপ্ন দেখেছিলো জীবন তা বাস্তবে পরিণত হলো।

ট্রেনিং সেন্টারে জয়েন করতে হবে। বেশ কিছু টাকার দরকার, কিছু জামা কাপড় কেনা কাটা আর যাওয়ার ভাড়া।

ধার করে টাকা যোগাড় করলো বাবা। বেতন পেলেই শোধ করে দেয়া যাবে। ভাবলো ওরা।

ট্রেনিং সেন্টারে জয়েন করলো জীবন। ট্রেনিং বেশ কষ্টের কিন্তু সোনার হরিণের হাতছানি ওকে সব ভুলিয়ে রাখলো।

জীবন ভূলেই গিয়েছিলো যে ওর শুরুটা হয়েছে কিছুটা ভেজাল মিশিয়ে। বিষয়টা ওর মনে পড়লো মাস ছয়েক পর ওর অন্যান্য কিছু সাথিদের আলাপ আলোচনায়। অর্থাৎ ওর মত ঠিকানা ভুল দেখিয়ে

ভর্তি হওয়া অনেকেই আছে।

ওরা প্লান করছে ঠিকানা যেহেতু ভূল দেয়া আছে তায় কি ভাবে পুলিশ ভেরিফিকেশান সামলানো যাবে। ওর টনকটা তখনই নড়লো। জীবন জানলো আর মাস দুয়েকের মধ্যেই ভেরিফিকেশানের

জন্য কাগজপত্র থানায় পাঠানো হবে, তায় যার যেখানে জানাশোনা লোকজন আছে তাদের সাথে এখন থেকেই যোগাযোগ করতে হবে।

জীবন অনেক চিন্তা ভাবনা করে বের করতে পারলো না যে ও কার কাছে যাবে।

ট্রেনিং শেষ হতে হতে প্রায় সবারই ভেরিফিকেশান রিপোর্ট চলে আসলো। যাদের আসলো না তার মধ্যে ও একজন।

ট্রেনিং শেষ হয়ে পোষ্টিং হলো সবারই। কিন্তু যাদের ভেরিফিকেশান হয়নি তাদের বেতন পুরোপুরি চালু হলো না কারণ চাকরীটাও পাকাপোক্ত হলোনা।  

ট্রেনিং শেষে ছুটিতে বাড়ী আসলো জীবন। গ্রামের গন্যমান্য সবাই জীবনের সাফল্যের ভাগীদার হতে ওদের বাড়ীতে আসলো। সবাই নানা ভাবে ওকে প্রশংসা করতে লাগলো কিন্তু জীবন যেন মন খুলে

খুশি হতে পারলো না সবার সাথে। অনেকে মন্তব্য করলো – এমন একটা ভালো চাকরী পেলে সবাই অমন একটু আধটু পরিবর্তন হয়ে যায়।

রাতে বাবাকে একপাশে ডেকে নিয়ে জীবন সব খুলে বললো।

বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন – তোর চাচার ঠিকানা যেহেতু দেয়া আছে তায় ওর কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় কি।

ওর বাবা আফসোস করে বললো যে, চাচা লোকটা ভালো না। সে নাকি ফাকি দিয়ে ওদের কিছু জমি ওর নিজের নামে করিয়ে নিয়েছে। এ অঞ্চলের অনেকের সাথে সে এ কাজ করেছে বলে তার  বদনামও আছে। কিন্তু উপায় কি অগত্যা বাবা ছেলে মিলে তার ওখানে গেল।

জীবনের পুলিশের চাকরী হওয়াতে ওর চাচা খুব আগ্রহ দেখালেন। বাবার নাম ধরে বললেন – তুইতো ভাগ্যবান, তোর ছেলে রাজকীয় চাকরী পেয়েছে। উপরি আয় কত জানিস, এতো সোনার হাস, ডিম পাড়তেই থাকবে। ভালো দেখে বিয়ে দিয়ে দে একটা। ফরজ কাজটা করে ফেল। ভেরিফিকেশান, ওটা আমি দেখবো কি করা যায়।

ওরা নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ী ফিরলো। স্বপ্নে বিভোর বাবা কোন কথায় গুনলেন না। গ্রামের মেম্বারের মেয়ের সাথে জীবনের বিয়ে দিয়ে ফরজ কাজটা সম্পন্ন করেই ছেলেকে পাঠালেন।

জীবন শুরু হলো। কিন্তু সোনার হরিণটা হাতের মুঠোয় পেয়েও ওটাকে যেন পোষ মানিয়ে নিজের করে নিতে পারলো না জীবন।

ভেরিফিকেশান রিপোর্টটা এখনো আসছে না। তায় চাকরীটাও পাকা হচ্ছে না আর পুরো বেতনটাও পাচ্ছে না জীবন। বাবার ধার করা টাকাগুলো শোধ করার জন্য দেব দেব করে টাকা পাঠাতেই পারছে না। তার উপর নতুন বিয়ে করেছে বউকেও কিছু পাঠানো দরকার।

কি যে করবে কিছুই ঠিক করতে পারছে না জীবন।

বাবাকে তাগাদা দিয়ে চিঠি লিখেছে চাচার সাথে যোগাযোগ করতে। চাচাতো বেশ ক্ষমতাবান থানার সাথে যোগাযোগ আছে। আর তিনিতো বলেছিলেন এ কোন ব্যাপারই না।

-বাবা তুমি যে করেই হোক ভেরিফিকেশানটা করানোর ব্যবস্থা করো চাচাকে দিয়ে। এটা হয়ে গেলে আর কোন চিন্তায় থাকবে না।

দরীদ্র অশিক্ষিত বাবা ছেলেটার জন্য কিছুই করতে পারেনি। জীবন যা কিছু করেছে তা ওর নিজের চেষ্টায়। বাবার মনটা আনচান করে উঠলো।

বাবার কাছ থেকে কোন জবাব না পেয়ে জীবন অধৈর্য্ হয়ে উঠতে লাগলো।

মাস খানেক পর ওর বাবা আসলো জীবনের সাথে দেখা করতে। বাবা স্বশরীরে আসাতে একটু অবাক হলো জীবন। তারপর বাবা যা বললো তাতে জীবনের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল।

-চাচা বলেছেন থানায় নতুন দারোগা এসেছে, খুবই কড়া পঁচিশ হাজারের নিচে এ সমস্ত কাজ তিনি করেন না। তাছাড়া থানার অন্যান্য সবাইকেই সন্তুষ্ট রাখতে হবে, বিষয়টাতো একদম কাচা মিথ্যা

তায় সব মিলে পঁঞ্চাশ হাজারের মত লাগবে।

-তোর চাচা বলেছে একবার ভেরিফিকেশান হলে আর কোন চিন্তা নেই। ভালো জাইগায় পেষ্টিং হলে এ টাকা উঠাতে নাকি দুএক মাস ও লাগবে না তোর।

বাবার মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো জীবন।

একটা ঢোক গিলে বাবা বললো – তোর চাচা বলেছে আমাদের যে জমিটা আছে ওটার সাথে লাগয়াইতো তার জমি, তায় জমিটাও ওর খুব পছন্দ, ওটা ওকে লেখাপড়া করে দিলে ও সব করে দেবে। 

আমাদের কোন ঝামেলা করতে হবে না।

জীবন নিস্তব্দ। বাবার কোঠরাগত চোখ দুটোতে জল টলমল করছে।

-তোর ভায়েরা কেউ রাজি না। ওই টুকুই তো আছে। আমার সাথে তোর ভাইদের সবার খুব রাগারাগি ঝগড়া হয়েছে। আমি ওদেরকে কথা দিয়েছি যে তোর ঝামেলা মিটলেই ওদের অংশের টাকা তুই তাড়াতাড়ি শোধ করে দিবি।

বাবার গলাটা ধরে আসলো।

-আমি খুব সখ করে তোর বউটাকে ঘরে এনেছিলাম। ভাবলাম থাকবে কদিন। এত সাধ করে মেম্বারের মেয়েটাকে ঘরে আনলাম। তায়তো কয়েকটা দিন রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোর ভায়েরা আর

ওদের বউরা মিলে ওকে থাকতে দিল না। বললো বাবার কাছ থেকে পাওনা যে টুকু ছিল তাতো বেচে এক ছেলেকেই দিলে আমাদের অংশ শোধ না হওয়া পর্যন্ত ওর বউকে আমরা খাওয়াতে পারবো না। মেম্বারের কি এত অভাব যে মেয়েকে খাওয়ার জন্য আমার বাড়ী পাঠিয়েছে? সব হিংসা, আমি বুঝিনে সবাই হিংসা করে।

বাবা মুখ গুজে নীরবে কাঁদতে লাগলেন।

জীবনটা এত বাস্তব হয়ে ওর সামনে আসেনি কখনো। তায় এর সবটুকুই জীবনের অচেনা লাগলো। কি করবে তা বুঝে উঠতে পারলো না সে।

একটু প্রকৃতিস্থ হয়ে বাবা চোখ দুটো পাঞ্জাবীর কোনা দিয়ে মুছে নিলো।

-দলিলটা উঠিয়ে দিয়ে আসলাম তোর চাচার হাতে। সেখান থেকেই তোর এখানে। তোর চাচা আমাকে অভয় দিয়েছে সব করে দিবে বলে।

জীবন যে লেখাপড়াটুকু শিখেছিলো তার জন্যই স্বপ্নটা দেখা এবং সে স্বপ্নপুরনই এ চাকরীটা। এত সবতো বৃদ্ধ বাবার চোখের জল মোছানোর জন্য। কিন্তু কি হচ্ছে এসব!

একটা বড় নিঃশ্বাস টেনে ভাবলো – সব ঠিক হয়ে যাবে, বাবার মুখে হাসি ফুটবে, ভাইদের সব ঋণ শোধ করে দেবে, বউটাকে বাড়ীতে নিয়ে আসবে।

আশায় বুক বাধলো জীবন।

তার পর বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হলো। কিন্তু ভেরিফিকেশান আসলো না। আর জীবনের বেতনটাও শুরু হলো না। চাচাকে কয়েকবার টেলিফোন করেও পাওয়া গেল না।

বাবার চিঠিটা ঐ দিন সকালেই পেয়েছে জীবন। ছোট্ট চিঠি, না আছে তাতে কোন আবেগ বা অভিযোগ।

-বাবা তোমার ভাইয়েরা খুব অধৈর্য হয়ে উঠেছি। কোন খবর আছে বাবা? আমার বিশেষ অনুরোধ

দুদিনের ছুটিতে বাড়ীতে ঘুরে যাও যত তাড়াতাড়ি পারো। মাথা উচু করে তোমার ভাইদের বলে যাও ওদের পাওনার জন্য কোন চিন্তা না করতে।

কি পরিকল্পনা করে মহা পরাক্রমশালী ওকে স্বপ্ন দেখালো জানি না, কি ভেবে জীবন এ কাজ করলো তাও বলতে পারবো না। ওর চাচা জমিটা পেয়েও কেন ভেরিফিশোনটা করালো না সেটাও অজানা রয়ে গেল। তবে গরীবের অতটুকু জমির মূল্য যে এত বেশী তা বোধহয় ওর লোভী চাচা কোন দিনই বুঝতে পারবেন না।

বাবার অনুরোধটা ঠিকই রাখলো জীবন। বাড়ীতে ও যাচ্ছে তবে মাথা উচু করে নয় খাটিয়াই শুয়ে।

 

 

 

 

 

 

জীবনের মূল্য সেত, তুমি দেবে যত, তুমিই তো জীবন দাতা   

সেটা কি বিঘা খানেক জমি না তার থেকেও দামি

তা শুধু জানো তুমি বিধাতা।

তোমার ধ্যানে, কি জীবন মানে  কেবল বন্দি করা রক্ত মাংসের হাড়ের খাঁচায়?    

তার পর, দায় যার যার   তবে কেন খাঁচার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়?      

তানা হলে কর্ম ফলে    তুমি দিচ্ছ নাত যার পাওনা যত   

এ জীবন তো নয় কারো চাওয়া    সেতো তোমার ইচ্ছা তোমার দেয়া

দিলেই যখন কর তখন     রক্ত মাংসের খাচার যতন।

জীবন গেল চলে, খাচা ভেঙেও হলে   

যারা রয়ে গেল তাদের কি হল, আর বাচবে তারা কিসের বলে?  

তোমার সৃষ্টি কবে তুমি নিয়ে যাবে, তোমার ইচ্ছে হবে যবে    

এটায়তো তোমার খেলা খেলছ সারা বেলা।   

যারা রয়ে গেল, কি করে তাদের সময় কাটবে বল?    

কেমন করে কাটবে তাদের বেলা?         

 

Category: Meaning of Life, Posts

Comment List

Your email address will not be published.