ঈগল আর চড়ুইদের গল্প

 

 

 

প্রশস্ত ডানা দুটো মেলে ও যখন গগনচুম্বী উচ্চতাই বাতাসে গা ভাসিয়ে দেয় তখন মনে হয় যেন সেও ওই  অনন্ত অসীমের একটা অংশ। নিচে যা কিছু তার সব তুচ্ছাতিতুচ্ছ অর্থহীন বোধহয় ওর কাছে।

বিধাতা ওভাবেই বানিয়েছেন ঈগলকে। টানা টানা বিদারক দুটো চোখ আর প্রশস্ত ডানা। তাছাড়া লম্বা সুচালো ঠোট আর লম্বা দুটো পায়ের ডগায় ধারালো নখ। এসব কিছু সবাইকে যেমন আকর্ষন করে  তেমনি সবার মনে ভয়েরও উদ্রেগ করে।

যাকে বলে রাজকীয় সৌন্দর্য্য আর ওর স্বভাবটাও রাজকীয়, চেহারার সাথে মানানসই। তায় বাসাটাও বেধেছে সবচেয়ে উচু গাছের একদম আগায়, সবার উপরে।

আকাশের কাছাকাছি ওর বসবাস, আর প্রশস্ত ডানাদুটো মেললে আকাশটা ওর আরো কাছাকাছি এসে যায়। আকাশের সাথে এই সখ্যতার সুযোগ ওর জন্মগত।

অন্যান্য সব পাখীরা যারা মাটির কাছাকাছি ঘর বাধে, সরু সরু নখ আর ঠোট দিয়ে মাটি আচড়ে পোকা মাকড় খেয়ে বেচে থাকে ওদের সবাইকে চড়ুই বলে মনে হয় ওর দৃষ্টিতে। ওদের সবারই ভাব কেবল মাটির সাথে। ওরা ওদের সীমিত চিন্তা চেতনায় আকাশের বিশালতা অনুধাবন করতে পারে না।

ঈগল মনের সুখে আকাশে ওড়ে, বসে কেবল পাহাড়ের চুড়াই আর সব বড় বড় গাছের ডগায়। উড়তে উড়তে ছো মেরে আকাশে ওড়া বা মাটিতে বসা অন্যান্য পশু পাখীদের নিজের পছন্দ মত শিকার করে বাসায় নিয়ে যায়। নিজে খায় আর সদ্য ফোটা বাচ্চাদুটোকেও খাওয়াই।

ওরাইতো ওর পরবর্তী প্রজন্ম। ওদের দিয়েই ওরা বেচে থাকবে অসীমতার অংশ হয়ে।  

সুখ স্বপ্নে ডুবে থেকে দিন কাটে ওদের। মাঝে মধ্যেই যতদূর মন চায় উড়ে গিয়ে আকাশের আরো  কাছাকাছি চলে যায়। ভাবে সার্থক জীবন ওদের।  

-আহ বাসাটাও যদি আরো উচ্চতায় বাধতে পারতো, আকাশের আরো কাছে। উড়তে উড়তে ভাবে ওরা। কিন্তু গাছ গুলো সব ছোট ছোট। ভেবে মনে মনে আপসোসও হয়।   

উড়তে উড়তে বা গাছের ডগায় নিজ বাসায় বসে বসে মাঝে মধ্যে তাকায় নিচের দিকে। মাটির কাছাকাছি স্যাঁতসেঁতে চুড়ুয়ের বাসাগুলো দেখলে গায়ের মধ্যে কেমন যেন ঘিন ঘিন করে ওঠে।

ভাবে ওরা সব চড়ুয়ের দল আকাশের কাছাকাছি আসার কোন চেষ্টাও করে না, কেবল পড়ে থাকে মাটিকে নিয়েই। ওই স্যাঁতসেঁতে মাটি ঘেটে ঘেটে গায়ে কাদা মাটি মেখে খাবারের সন্ধান করেই দিন কাটে ওদের।

ভুলেও যেন সুর্য্যালোকিত আকাশের দিকে তাকায় না ওরা। সময়ও নেই, আবার ছোট ছোট অনুজ্জল চোখ দুটো সুর্য্যের কিরণ সহ্যও করতে পারে না। চড়ুয়ের দল কেবল মাঝে মধ্যে ঝিলের জলে তৃষ্ণা মিটানোর ছলে আকাশের প্রতিচ্ছবিটা দেখে তার কাছে মাথা নোয়াই।

তাতেই পরিতৃপ্ত ওরা।

মনে মনে আপসোস হয় ওদের ওই নিরর্থক জীবনের কথা ভেবে।

তায় রাজকীয় ঈগল ভাবলো ওদের জীবনের অসারতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্য। মনস্থ করলো চড়ুইদের দাওয়াত করবে ওর বাসায় একদিন। ভাল ভাল খাবার দাবার পরিবেশন করে আর আকাশের কাছাকাছি ওর বাসাটা দেখিয়ে নিজের উন্নত জীবনের কিছুটা ধারণা দেয়া যাবে ওদের।

ঈগলের দাওয়াত পেয়ে একেবারে আত্মহারা চড়ুয়ের দল।

ওদের অনেকেই দেখিনি কখনো ঈগলকে, শোনেওনি ওর কথা। ওরা মিটিং করে ঈগল সম্পর্কে যার যেটুকু জানা আছে তা নিয়ে আলোচনা করলো। মিটিং শেষে চড়ুইরা সবাই ঈগল, তার বাসা, শক্তি-সামর্থ্য ইত্যাদি সম্পর্কে এক একটা কল্পিত ছবি একে দাওয়াতের দিন আগমনের অপেক্ষায় ক্ষণ গুনতে লাগলো।

ওদের এতসব প্রস্তুতি উপর থেকে দেখে মৃদু হাসলো ঈগলেরা।

দাওয়াতের দিন সকালে একান্ত তাচ্ছিলো ভরে ছো মেরে একটা আস্ত খরগোশ ধরে আনলো ঈগল।

-এটাই ওদের মত ভুখা নাঙাদের জন্য যথেষ্ট। ভাবলো ওরা।

লম্বা ঠোট দিয়ে খরগোশটাকে ছিড়ে নিজেরাও খেলো আর বাচ্চাদেরকেও দিল।    

ভাবলো আস্ত খরগোশটা চড়ুইয়ের দল ওদের ছোট ঠোট দিয়ে ছিড়তে পারবে না। তায়তো এগুলো ছেড়া থাকলে ওদের খাওয়ার সুবিধে হবে।  

চড়ুয়ের দল প্রস্তুত হয়ে আনন্দে ডগমগ অবস্থায় কিচির মিচির করতে লাগলো। এ যেন এক মহা উৎসব ওদের জন্য।

অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো। ঈগলের উচু বাসায় দাওয়াত খেতে যাওয়ার জন্য এক এক করে উড়তে শুরু করলো চড়ুয়ের দল।

কিন্তু একি! ঈগলের বাসাটা যে অত উচুতে তা ওরা এতদিন আন্দাজ করতে পারিনি। চড়ুয়ের দল ব্যর্থ হয়ে একে একে ক্লান্ত দেহে নেমে এসে মাটিতে বা নিচু ডালে বসে জিব বের করে হাঁপাতে লাগলো। কেউ কেউ আবার পাশের ঝিল থেকে জল খেয়ে বুকের ধুকধুকুনিটা কমালো। সেই সাথে ঝিলের জলে দেখা যাওয়া আকাশের প্রতিচ্ছবির সামনে মাথাটা নতুন করে নুইয়ে আসলো তাঁর কাছে নিজেদের ক্ষুদ্রাকারের কথা স্বরণ করে।  

এতোদিনে চড়ুয়ের দল সত্যি সত্যিই ঈগলের সামনে ওদের অসারতাকে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করলো।

চড়ুইদের কান্ডকারখানা দেখে ঈগল একটু অবাক হলেও নিজের উন্নত অবস্থানের চিন্তাটা আরো সূদৃঢ় হলো ওদের মনে। ওদের সুউচ্চ বাসার নিচে চড়ুইদের প্রানান্তকর পাখা ঝাপটানো দেখে ওদের ঠোটের উপর আত্মতৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো।    

ভারী মায়া হলো বেচারাদের জন্য।

কি যেন একটা ভাবলো ওরা। তারপর ওদের লম্বা লম্বা ধারালো নখওয়ালা পা দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে  দাওয়াতী চড়ুইদের জন্য রাখা খাবার গুলো ওর বাসা থেকে নিচে ফেলে দিতে লাগলো।

চড়ুইগুলো প্রথমে একটু হতভম্ব হলেও পরোক্ষনে খাবারগুলো আশির্বাদের মত আকাশ থেকে পড়ছে ভেবে মহা আনন্দে কিচির মিচির করতে করতে মহাতৃপ্তিতে তা খাওয়া শুরু করলো।

ঈগলের এ মহানুভবতার গুনকীর্তনে মেতে উঠলো সব চড়ুয়ের দল।

তা দেখে ঈগলের তৃপ্ত আত্মা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হলো। ওরা কৃতজ্ঞতা ভরে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে অতীব উৎশাহ সহকারে ওদের বাসার ভিতর রক্ষিত খাবারগুলো পা দিয়ে ঠেলে ঠেলে নিচে ফেলতে লাগলো।  

যেন পাকা শিল্পীর তুলিতে আকা অপরূপ এ দৃশ্যে! সবাই মাতোয়ারা নিজ নিজ তৃপ্তিতে!  

এরই ফাকে এক বুড়ো চড়ুয়ের চিৎকারে চড়ুয়ের দল যেন সম্বিৎ ফিরে পেলো।

অসীমের অংশ হওয়ার তৃপ্তিতে নিমগ্ন ঈগলের পায়ের ধাক্কায় চড়ুয়ের খাবারের সাথে ওদের কদিনের ফোটা বাচ্চা দুটোও নিচে পড়ে গেল।  

চড়ুয়ের দল কিচির মিচির থামিয়ে জড়ো হলো উচু গাছের মাথা থেকে পড়ে যাওয়া ঈগলের বাচ্চা দুটোকে ঘিরে।

চড়ুইদের কেউ কেউ ঝিল থেকে ঠোটে করে পানি এনে আবার কেউ ভেজা স্যাঁতসেঁতে মাটির উপর নরম খড়কোটা বিছিয়ে বাচ্চাদুটোকে শুশ্রূষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

বুড়ো চড়ুইটা চিৎকার করে ঈগলকে ডাকতে লাগলো।

কিন্তু ঐ মুহুর্তে মাথার উপর আকাশের গন্ধ আর নিচ থেকে ভেসে আসা ওদের ফেলা খাবার খেয়ে  পরিতৃপ্ত আর কৃতজ্ঞ বেচারা চড়ুইদের কিচির মিচির শব্দ ওদের মনের গভীরে লালিত শ্রেষ্টত্বের স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে মাতোয়ারা ঈগল। সেই প্রশান্তিতে চোখ কান সবই বন্ধ ওদের।  

নিচে চড়ুইদের থেমে যাওয়া কিচির মিচির ওদের আত্মতৃপ্তির ধ্যান ভঙ্গ করলো।   

ওরা ওদের পরিতৃপ্তির ধ্যান ভঙ্গ করে নিচে এক জায়গায় জড়ো হওয়া চড়ুইদের দিকে তাকালো। চড়ুইদের অমন চুপচাপ ভাব বিহবল করলো ঈগলদেরকে।  

হঠাৎ করে ওদের নজরটা পায়ের নিচে নিজ বাসার দিকে পড়ায় আৎকে উঠে তাড়াতাড়ি করে উড়ে সোজা মাটিতে নেমে আসলো।  

আকাশের ঈগলকে মাটিতে দেখে চড়ুয়ের দল সভয়ে ওদেরকে জায়গা করে দিল।  

কিছুদিন আগে ফোটা বাচ্চা দুটো মাটিতে পড়ে আছে পাশাপাশি। চড়ুইদের দল ওদের সাধ্যমত সব চেষ্টা করেছে বাচ্চা দুটোকে বাচিয়ে রাখার জন্য।

বাচ্চা দুটো চোখ মেলে তাকালো। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।

বেচে আছে দুটো বাচ্চাই। তবে অত উচু থেকে পড়ায় ওদের দুজনেরই একটা করে পা আর ডানা ভেঙ্গে গিয়েছে।

বাচ্চাদের জীবন বাচার আনন্দে বিভোর সবাই।

ঈগলেরা চড়ুইদের মহানূভবতার জন্য যার পর নেই কৃতজ্ঞতা জানালো। আর চড়ুইয়ের দল তাদের সর্বপ্রকারের সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস পূনর্ব্যক্ত করলো।

কিন্তু সমস্যা বাধলো বাচ্চা দুটোকে অত উচুতে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে। বুড়ো চড়ুই সোৎশায়ে বললো -তা থাক না ওরা এখানে পা ডানা ভালো হওয়া পর্যন্ত।

চড়ুই সরদারের বদান্যতায় অভিভূত হলো ঈগল। ভাবলো ওরা এই বদান্যতা না দেখালেও ওরতো

কিছুই করার ছিল না।

মাটির বাসায় থাকতে ভীষন অসুবিধা তবুও বাচ্চাদের কথা মাথায় রেখে মাটিতে বাসা বেধে থাকার মনোস্ত করলো ঈগলেরা। ওরা ওদের মত করে মাটির টিপির উপর ঘর বেধে নিল কিছু দিন থাকার প্রস্তুতি হিসাবে।  

মাটির বাসায় রাতে ঘুম আসে না ওদের, গাটা ম্যাজ ম্যাজ করে। সন্ধ্যে হলেই অন্ধকার যেন গিলে ফেলে সবকিছু। এখান থেকে আকাশটাও দেখা যায় না একদম।

মনে হয় যে কোন সময় দম বন্ধ হয়ে যাবে। প্রহর গুনে গুনে সারারাত কোনমতে পার করে সকাল হতেই ডানা মেলে আকাশে ওড়ে। কিন্তু বেশিক্ষন উড়তে পারে না, ক্লান্ত লাগে, চোখ দুটো ঢুলু ঢুলু করে ঘুমে। ফাকে ফাকে নিজের ফাকা বাসায় শুয়ে চোখ দুটো একটু বন্ধ করে নেয়।

অসীমতার গন্ধ আর নাকে আসে না এখন। পল গুণে গুণে সময় পার হয় ওদের। সকাল হলেই আবার  কালো দম আটকানো রাতের আর্বিভাবের অপেক্ষা করে।

এভাবে চলতে চলতে কয়েক দিনেই ওদের শরীর শুখিয়ে দুচোখের নিচে কালি জমে গেল। চেহারায় সেই  রাজকীয় ভাবটা দিনে দিনে মলিন হয়ে যেতে লাগলো।

মাটির এই স্যাঁতসেঁতে ঘরে চড়ুইরা সারাদিনের ক্লান্তিতে ভরা দেহটা এলিয়ে দিয়ে কেমন নিশ্চিন্তে

ঘুমোই। আধার নামলে শত শহস্র অসুবিধার কোন কিছুই ওদের চোখের পাতা দুটো খুলে রাখতে পারে না।

আকাশ দেখে না ওরা। ওদের কাছে আকাশ অনেক দূরের বিষয়। মাটিকে নিয়েই দিন কাটে ওদের।

ওরা প্রতিদিন সুর্য্য ওঠার আগে ঘুম থেকে উঠে মাটি মাখা দেহটা ঝিলের জলে একটু ধুয়ে গাটা ঝাড়া  দিয়ে শুকিয়ে নিয়েই বেরিয়ে পড়ে। ঝিলে গা ধোয়ার সময় নির্মল জলের মধ্যে দেখা যাওয়া আকাশটার দিকে তাকিয়ে ওরা ওই মহাপরাক্রমনশালী প্রকৃতির সামনে নিজেদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অস্তিত্বের কথাটা নতুন করে স্মরণ করে আরো একটা নতুন দিন শুরু করে।

ওদের দিকে তাকিয়ে ঢুলু ঢুলু চোখে ঈগল ভাবে -আহ কত সরল আর সহজ আর সীমিত চাহিদার জীবন ওদের! কত অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকে ওরা। জীবনের অতিরিক্ত চাহিদাগুলোই দেহ মনে অতৃপ্ততা আনে। চোখ কান বন্দ করে অমূলক শ্রেষ্ঠত্বের ভাবনাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেই কোন ভেদাভেদ থাকে না। বাহ্যিক আকৃতির ভিন্নতাই আমাদেরকে একে অপরের থেকে পৃথক করে রাখে। বাহ্যিক আকৃতির উর্ধে উঠে আকৃতিহীন অস্তিত্তের পর্যায়ে সবাই এবং সবকিছুই অভিন্ন।             

প্রতিদিনই দরদ দিয়ে গভীর ভাবে পরীক্ষা করে বাচ্চাদের ক্ষতগুলো দেখে আর ভাবে কয়েকদিনেই হয়তো  ক্ষতগুলো ঠিক হয়ে যাবে। তখন ওদেরকে নিয়ে ঈগল আবার ফিরে যাবে ওর নিজ বাসায়।

এটা মাত্র কয়েকদিনের ব্যাপার হলেও দিনগুলো অনেক লম্বা মনে হয় ওদের কাছে।  

সেদিন সকালে উঠে চড়ুইদের মত করে হেটে হেটে ঈগল গেল ঝিলের ধারে। কেউ নেই কোথাও।  কাকডাকা ভোরে চড়ুইরা সবাই ঝিলের জলে গা ধুয়ে দিন শুরু করেছে অনেক আগেই।

জায়গাটা গাছের ছায়ায় ঢাকা স্যাঁতসেঁতে। গাটা ঘিন করে উঠলো ঈগলের। চারিদিকে আঁষটে গন্ধ আর নিজের শরীরেও কাদা মাটি মাখা।

আকাশটা একদম দেখা যায় না।

ঝিলের জল একটুও নড়ছে না। একটু দূরে জলের মধ্যে একখন্ড আকাশের প্রতিচ্ছবি চোখে পড়লো। নির্মল জলের উপর পড়া একটুখানি আকাশের প্রতিচ্ছবি আকাশের বিশালতার তুলনায় নিতান্তই নগন্য। কিন্তু নির্মল জলের ভিতর দিয়ে দেখা একটুকরো আকাশের এই সৌন্দর্য এত অপরুপ তা কখনো ভাবেনি ইগলেরা।   

হঠাৎ করে হাহাকার করে উঠলো মনটা।  

মনে হলো -বাচ্চা দুটোর ডানা আর পা যদি কোনদিন ভালো না হয়!

Comment List

Your email address will not be published.