নিরেট সত্যের উপলব্ধি

 

 

রেশমের গুটিপোকার লার্ভা বা শূককীট অন্ধ এবং অতীব পেটুক হয়। এ সময় কিটগুলো কেবলই খাই আর বড় হয়। এই খাওয়া আর বাড়তে থাকা কালীন সময় কালীন কীটগুলো চার বার পর্যন্ত  তাদের ত্বক বদলে ফেলে যাকে খোলশছাড়া বলা হয়। শেষ খোলশছাড়ার সময় শূককীট গুলো তাদের ডিম ফুঁটা কালীন ওজনের থেকে ১০,০০০ গুন ওজন বৃদ্ধি  পায়। এ সময়ের মধ্যে শূককীট গুলো তাদের জন্মকালীন ওজনের চেয়ে ৫০,০০০ গুন বেশী ওজনের খাবার খেয়ে ফেলে। এ সময়ে  শূককীট গুলো ভোজন বন্দ করে মুককীট বা পতঙ্গে রূপান্তরের প্রস্তুতি শুরু করে আর তারা নিরাপত্তার জন্য নিজের চারপাশে প্রতিরক্ষামূলক কেসিং হিসাবে কোকুন তৈরি করতে শুরু করে যা কীটকে বিরুপ আবহাওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

কোকুনের ভিতর ২ থেকে ৩ সপ্তাহ নিরাপদে অবস্থান করার পর রেশম কীট তাদের জীবনচক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তর করতে অর্থাত্‍ পতঙ্গে রূপান্তরিত হতে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়। এই  পরযায়ে প্রতিরক্ষামূলক  কেসিং অর্থাৎ কোকুন যার ভিতর এক কিলোমিটারেরও বেশি পরিমাণ একটানা রেশম সুতো বিরাজমান থাকে যেটা নিয়েই রেশম চাষি এবং  রেশম  পোকার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

একদিকে পরিপক্ক রেশম পোকা তার জীবন চক্রের শেষ ধাপে পৌঁছানোর জন্য কোকুন চিবিয়ে কেটে তাতে গর্ত করে তার সুরক্ষামূলক আবরণ থেকে বেরিয়ে আসতে তোরজোড় শুরু করে। অন্যদিকে, পোকাটিকে বেরিয়ে আসতে দিলে একটানা রেশম সুতো কাটা পড়বে আর কোকুনটা রেশম চাষির ব্যাবহারের আনুপযোগী হয়ে যাবে।

এখন যুদ্ধ শুরু; মথের জন্য এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক কেসিং যেটি তার নিজের জন্য ব্যবহার উপযোগীতা হারিয়েছে, পক্ষান্তরে কৃষকের জন্য আস্ত কোকুনটি একটা মূল্যবান দ্রবে পরিণত হয়েছে।  

তাই রেশম চাষীরা রেশম পোকা যাতে কোকুনটা কেটে বেরিয়ে আসতে না পারে সেটা নিশ্চিত করার জন্য কোকুনটাকে গরম জলে ডুবিয়ে দেয়  ফলে পোকাটি কোকুনের ভিতরেই মারা যায়। ফলশ্রুতিতে কৃষক তার রেশম সুতো একটানা অক্ষত অবস্থায় পাই।

পোকা গুলো কিন্তু আমাদের মত সংবেদনশীল। পরীক্ষা করে দেখা  গিয়েছে যে তাদেরকে সিদ্ধ করার সময় তাদের দেহ থেকে এনডরফিন্স নির্গত হয় এবং অন্যান্য জীবের মত শারীরিক যন্ত্রণার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।

 

নিরেট বাস্তবতা**নিজের সৃষ্ট সম্পদ বাচানোর জন্য সৃষ্টিকারীর জীবন নেয়ার এটি এক অনন্য উদাহারন।*

Comment List

Your email address will not be published.